TURNER IT SOLUTION

বৃহস্পতিবার ২৯ জুন ২০১৭ || সময়- ৯:৪১ am

Warning: include(usbd/config/connect2.php) [function.include]: failed to open stream: No such file or directory in /home/onn24/public_html/details.php on line 82

Warning: include(usbd/config/connect2.php) [function.include]: failed to open stream: No such file or directory in /home/onn24/public_html/details.php on line 82

Warning: include() [function.include]: Failed opening 'usbd/config/connect2.php' for inclusion (include_path='.:/usr/lib/php:/usr/local/lib/php') in /home/onn24/public_html/details.php on line 82

Warning: mysql_num_rows() expects parameter 1 to be resource, boolean given in /home/onn24/public_html/details.php on line 84

সাংবাদিক নাজমুল এক, প্রশ্ন অনেক

  • সাংবাদিক নাজমুল এক, প্রশ্ন অনেক

বিতর্কিত ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন’ এর ৫৭ ধারাকে নিয়ে অনেক সমালোচনা থাকলেও আজ অবধি সেই ধারাটির কোন পরিবর্তন করেনি সরকার। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন প্রনয়ণ করে ২০০৬ সালে। আইনটিকে ভালোবেসে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃদানকারী দল আওয়ামী লীগ সেটিতে সংশোধনী এনে তা আরো কঠোর করে ২০১৩ সালে। সেই সংশোধনীতে পুলিশকে দেয়া হয় একচ্ছত্র ক্ষমতা। বুর্জোয়া রাষ্ট্রে এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

 

কালে কালে দেশে দেশে এধরনের রাষ্ট্রে এরকম নিপীড়নমূলক আইন প্রনয়ণ করা হয়েছে অগণিত এবং তার প্রয়োগও হচ্ছে নগ্নভাবে। বুর্জোয়া রাষ্ট্রের সরকারগুলো যে বাহিনীর ওপর সবচেয়ে বেশী নির্ভরশীল সেই পুলিশ বাহিনী এ ধরনের আইনের অপব্যবহারে উৎসাহী থাকে বেশী। যার সবশেষ দৃষ্টান্ত একুশে টেলিভিশন ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাভার প্রতিনিধি সাংবাদিক নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে আইনটির চরম অপব্যবহার। নাজমুল একমাসেরও বেশী সময় ধরে এখনো কারাগারে, নেয়া হয়েছে রিমান্ডেও, যদিও গেলো ২৩ তারিখ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে করা মামলাটিতে তার জামিন হয়েছে। তবে তার কাঁধে এখনও পাঁচ-পাঁচটি মামলা, যার মধ্যে গার্মেন্টস থেকে প্যান্ট চুরির একটি মামলাও রয়েছে। ডিসেম্বরে আশুলিয়ায় পোশাক কারখানাগুলোতে শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে করা একটি প্রতিবেদনকে ব্যবহার করে নাজমুলের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের  ৫৭ ধারায় মামলাটি দেয়া হয় প্রথমে। ২২ ডিসেম্বর ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’-এ ‘থমথমে আশুলিয়া’ শিরোনামে প্রকাশিত সাংবাদিক নাজমুলের করা সংবাদে বলা হয় ‘শ্রমিক আন্দোলনের মুখে আশুলিয়ায় ৫৫টি পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে।’ কিন্তু পুলিশ সেই সংবাদকে বিকৃতভাবে এজাহারে উল্লেখ করেছে ‘ছয়শো পোশাক কারখানা’ বন্ধের কথা। যাতে মিথ্যে তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমে শ্রমিক আন্দোলনকে উস্কে দেয়ার কারণ হিসেবে নাজমুলকে ফাঁসানো যায়। অর্থাৎ পুলিশই তাহলে তথ্য বিকৃতি করেছে। প্রমাণ হিসেবে ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’-র ওই সংখ্যা এবং অনলাইন ভার্সনতো ইচ্ছে করলে যে কেউ খুব সহজেই পরখ করে নিতে পারেন। তাহলে অসত্য তথ্য দিলো কে? যে মিথ্যে অপরাধে নাজমুল এখনো কারাগারে, সেই আসল অপরাধে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের মামলা করা যায়, তা আইনজ্ঞরা বলতে পারবেন। জানা গেছে, সাভার-আশুলিয়ার কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তা এবং সদস্যের অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে নাজমুল বেশ কিছু প্রতিবেদন করেছেন বিভিন্ন সময়ে। আর সেকারণেই তাদের রক্তচক্ষুর শিকার হন সাংবাদিক নাজমুল হুদা।

অবাক হওয়ার বিষয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের প্রতারণার শিকার সাংবাদিক নাজমুল হুদাকে নিয়ে হাতে গোনা দু-একটি সংবাদ মাধ্যম ছাড়া আর কোনটি কোন প্রকার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ বা প্রচার করেনি। কেনো করেনি? এটা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির আইনের মামলা, এই ভয়ে? না কি ঘটনার ভেতরে ঢোকার প্রয়োজন কেউ মনে করেনি কিংবা গুরুত্ব দেয়নি? কারণ যেটিই হোক, এটা ‘সেল্ফ সেন্সরশীপ’ সংস্কৃতির একটি বড় অভিঘাত বলে মনে হয় আমার কাছে।

সাংবাদিক নাজমুলকে নিয়ে বড় ধরনের কোন সাংবাদিক আন্দোলনও গড়ে উঠতে দেখা যায়নি, যতোটা হয়েছে একই আইনের ফাঁদে পড়া সাংবাদিক প্রবীর শিকদারকে নিয়ে। কেনো হয়নি? সাংবাদিক প্রবীর শিকদার একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং একই সঙ্গে নিজের এক পায়ে সমস্যা থাকায় ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটার পরও তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সবার আবেগকে স্পর্শ করেছিলো সহজে। তাছাড়া ঘটনার সঙ্গে সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর নাম জড়িয়ে থাকায় বিষয়টির প্রতি মানুষের আগ্রহও ছিলো বেশী। প্রবীর শিকদারের জন্য হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের ভূমিকাও ছিল অনেক। কিন্তু সাংবাদিক নাজমুলের কপালে এতো কিছু জোটেনি। তাছাড়া তখন সাংবাদিক নেতারা ঐক্যবদ্ধ থাকলেও স্বজাতিভূক্ত হওয়ার পরও নাজমুলের ক্ষেত্রে তা হয়নি। তিনি আটকের প্রায় এক মাস পর সরকারপন্থী সাংবাদিকদের একাংশ প্রথম মাঠে নামে। তবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিকদের ওই কর্মসূচীতে অনেক সাংবাদিক নেতাকে দেখা গেলেও কারো কারো অনুপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে চোখে পড়ার মত। যারা অনুপস্থিত ছিল বেশীরভাগ ক্ষেত্রে তারাই কিন্তু বিভিন্ন সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে আওয়াজ দেন সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের জিগির তুলে। টেলিভিশনের টক’শোগুলোতে যারা পুরো জাতিকে নসিহত করেন বিভিন্ন ইস্যুতে, তারাই বা কেন এ ঘটনায় একেবারে চুপচাপ, তাও কৌতুহল উদ্দীপক। নিশ্চয় এর মধ্যেও কোন খেলা আছে বলে আমার বদ্ধমূল ধারণা। আর বিএনপিপন্থী সাংবাদিক? কোথায় তারা!! তবে নাজমুলের মতো এমন অনেক সাংবাদিকের ঘটনাই সাংবাদিক নেতাদের চোখে পড়ে না, যারা ৫৭ ধারার মার প্যাঁচে দুর্বিষহ জীবন আলিঙ্গন করেছেন এরই মধ্যে। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যমের অধিকর্তাদের কারো-কারোর কারণে যে এই রাষ্ট্র-এই সমাজ আরো বেশী বিপদগ্রস্ত হচ্ছে, তা কি অনুধাবন করতে পারছেন সংশ্লিষ্টরা? কথায় আছে, দেবালয়ে আগুন ধরলে স্বয়ং দেবতাও রক্ষা পায় না।

আরো মজার বিষয় হচ্ছে, সাংবাদিক নাজমুল হুদা যে বেসরকারী টেলিভিশন এবং পত্রিকার সাভার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন, এর মধ্যে বাংলাদেশ প্রতিদিন তার পাশে দাঁড়ালেও একুশে টেলিভিশনের ভূমিকা একেবারে বিপরীত। তিনি আটকের পরপরই তাকে সহযোগিতা করা দূরের কথা, প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ এক কর্মকর্তার নির্দেশে বরং তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। অপরাধ- তিনি নাকি অন্য আরেকটি চ্যানেলে ফুটেজ সরবরাহ করেন অথবা কাজ করেন! শোনা যায়, সাংবাদিক নাজমুলের বিরুদ্ধেও অপরাধমূলক কাজের অনেক ধরনের অভিযোগ রয়েছে। সেগুলোর যৌক্তিক তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ অবশ্যই নেয়া যেতে পারে। কিন্তু ব্যক্তি প্রতিহিংসার কারণে কারোর বিরুদ্ধে পুলিশী ষড়যন্ত্র কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক শাস্তি আরো বেশী ভয়ানক অপরাধ। তাদের শাস্তি দেবে কে?

মঞ্জুরুল আলম পান্না : সাংবাদিক, কলাম লেখক।
monjurpanna777@gmail.com 

ONN TV
payoneer
নিউজ আর্কাইভ
সর্বাধিক পঠিত
সখিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২ ব্যাপী ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান
ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

সাতক্ষীরা  প্রতিনিধি: সখিপুর ইউনিয়নের সখিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২ দিনব্যাপী ক্রীড়া, কুইজ, রচনা প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বে-সরকারি প্রতিষ্ঠা

জেলা পরিষদের সদস্য প্রাথী শাপলার গনসংযোগ
জেলা পরিষদের সদস্য প্রাথী শাপলার গনসংযোগ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে গনসংযোগ করেছেন জেলা পরিষদের সদস্য প্রার্থী সোনিয়া পারভীন শাপলা। সোমবার

দেবহাটা রিপোর্টাস ক্লাবের নবগত নির্বাহী অফিসারের সাথে ফুলের শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়
 শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলা নবগত নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেবহাটা রিপোর্টাস ক্লাবের নের্তৃবৃন্দরা। সোমবার দুপুরে নির

দেবহাটায় ছাত্রলীগের ৪দলীয় ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট
৪দলীয় ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট

মীর খায়রুল আলম, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: দেবহাটায় ছাত্রলীগের উদ্যেগে ৪দলীয় ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার গোপাখালি মাঠে দে

দেবহাটায় ইএনও’র বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন
দেবহাটায় ইএনও’র বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন

মীর খায়রুল আলম:: দেবহাটা উপজেলাকে মডেল করতে ছুটির দিনে উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ আল-আসাদ। শুক্রবা

শিরোনাম