TURNER IT SOLUTION

শুক্রবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ || সময়- ৮:৫৯ pm

Warning: include(usbd/config/connect2.php) [function.include]: failed to open stream: No such file or directory in /home/onn24/public_html/details.php on line 82

Warning: include(usbd/config/connect2.php) [function.include]: failed to open stream: No such file or directory in /home/onn24/public_html/details.php on line 82

Warning: include() [function.include]: Failed opening 'usbd/config/connect2.php' for inclusion (include_path='.:/usr/lib/php:/usr/local/lib/php') in /home/onn24/public_html/details.php on line 82

Warning: mysql_num_rows() expects parameter 1 to be resource, boolean given in /home/onn24/public_html/details.php on line 84

নিগৃহীত ও নির্যাতিত নারী এবং বিবেকবান (?) সমাজ : একটি পরিসংখ্যান

  • নিগৃহীত ও নির্যাতিত নারী এবং বিবেকবান (?) সমাজ : একটি পরিসংখ্যান

 বিখ্যাত নেপোলিয়ন বলেছেন, “আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও,আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি দেব” তারপর বিশ শতকের গোড়ার দিকে বিদ্রোহী কবি নজরুল বলে গেছেন,
“সাম্যের গান গাই,
আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোন ভেদাভেদ নেই।
বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর,
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী,অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা কিছু এল পাপ-তাপ,্েদনা অশ্রুবারি,
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর,অর্ধেক তার নারী।”
নেপোলিয়নের জাতি গড়ার কারিগর সেই নারী আর নজরুলের সম্যবাদের সেই নারী আজ শুধু ইতিহাসের পাতায়, কবিতার খাতাই সোনালী অক্ষরেই শোভা পাচ্ছে।নারীর প্রতি সহিংসতার রুপ দেখে আমার তাই মনে হয়।
এখন টিভি রিমোর্ট চাপলে কিংবা পত্রিকার পাতা খুললেই চোঁখে পড়ে নারীর প্রতি সহিংসতার বিভৎস রুপ। যেন এই সমাজের দায়িত্ব হয়ে দাড়িয়েছে কোন না কোন ভাবে নারীকে কষ্ট দেয়া,নির্যাতন করা,মানসিক ভাবে ভেঙে ফেলা, শারীরিকভাবে নিঃশেষ করা। প্রতিদিন ধর্ষণ, ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা,এসিড নিক্ষেপ,শ্লীলতাহানি,ইভটিজিং নিউজলাইনের নিয়মিত বিষয় হিসাবে আমরা দেখি।
আজ এই সভ্য জগতে বাস করেও, আলাট্রামর্ডান যুগে থেকেও আমরা আদিমতাকে বজায় রেখে নারীর প্রতি হিংস্্রতা চালিয়ে যাই। নারীর প্রতি অবিচার,অনধিকার,মারপিট,প্রতিটি কাজে খুঁত ধরা,মানসিক ভাবে ভেঙে ফেলা ইত্যাদি বিষয়কে আমরা ছোট করেই দেখি কিংবা কেউ কেউ দেখিই না দু'চোঁখে দিয়ে।
নারী নির্যাতনের বিষয়টাকে আমাদের অন্ধ সমাজে স্বাভাবিক একটা দিক হিসাবে ধরা হয় এখনো। নারী কোন দোষ করলে আমরা এটা ধওে নেই যে, স্বামীর অধিকার আছে স্ত্রীকে বঁকাঝঁকা করার বা প্রহার করার। এই বলে আমরা নিব্রত হই। আমাদের এই নোংরা মানসিকতার কাছে পরাজিত হয়ে প্রতিদিন অসংখ্য নারী তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করেছেন, তাদেও জীবন হয়ে উঠছে স্বামীরুপ এক মনিবের কাছে দাসীর মত! যে জীবন সারাদিন সংসারে গরুর মত খাটার জন্য,বকা খাওয়ার জন্য আর মারধরে নিরবে সয়ে যাওয়ার জন্য।
এরই মাঝে আবার আরেক গজব হিসাবে সমাজ যৌতুক প্রথাকে বজায় তো রেখেছেই যা নারী নির্যাতনের আরোও এক মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। একটি কিশোরী যখন তার বাবার কাছে থাকে তখন হয়তো ভালই থাকে কিন্তু বিয়ের পর যখন স্বামীর ঘরে যায় তখন অন্যান্য ব্যতিক্রমতার সাথে যৌতুকের চাপ তাকে এটা বলে দেয়,পৃথিবী শুধু স্বার্থেও জন্য, টাকার জন্য,পুরুষের জন্য।
হিন্দু সংস্কৃতি থেকে উঠে আসা এই যৌতুক প্রথা আজ আমাদের সমাজে এমন ভাবে গেড়ে বসেছে যে,একটু ব্যাতিক্রম হলেই জীবন দিতে হচ্ছে নারীদের।শরীরে আগুন দেয়া হচ্ছে,না খাইয়ে রাখা হচ্ছে,দীর্ঘদিন বাবার বাড়িতে রাখা হচ্ছে,মারধর কওে পঙ্গু কওে দেয়া হচ্ছে,নির্যাতনের মাত্রা সইতে না পেওে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে অসংখ্য নারী পুরুষ।
দেশে আইন আছে যৌতুকের বিরুদ্ধে কিন্তু তা শুধু আইন প্রণেতা আর আইন বইয়ে সীমাবদ্ধ কওে রাখা হয়েছে যার কোন বাস্তব প্রয়োগ কখনই আমরা দেখিনা। আমাদের সমাজকে নারীর প্রতি নৃশংসতার দিকে ঠেলে দেয়ার অন্যতম কারন,প্রশাসনের উদাসীনতা,আইনের যথাযথ প্রয়োগ না করা,নারী নির্যাতনকে একটা স্বাভাবিক বিষয় ভেবে প্রশাসনকে না জানানো,নারীরা নিজেরেদেরকে অবহেলিত মনে করে চুপ কওে থাকা,প্রতিবাদিনী না হয়ে সবই ভাগ্য বলে দুঃখ করা এবং মেনে নেয়া,পুরুষের অন্যায় অধিকারকে স্বীকারপূর্বক নিজেকে দাসী ভেবে সংসার চালিয়ে যাওয়া সহ আরো অসংখ্য কারন আছে। আমাদের চোঁখের সামনেই তো প্রতিদিন কত ঘটনা ঘটে সেগুলো আমরা না দেখার ভান করে বা স্বাভাবিক নিয়ম ভেবে চুপ থাকি।
আমি হতবাক! আমি মাঝে মধ্যে নির্বাক হয়ে যায়। শুধু বলাতে আর শাস্তির ভয়ে কাজ হবেনা। বদলাতে হবে আমাদের এই বাজে মানসিকতা,চিন্তাধারা,মানবিকতা বিষয়টাকে আমরা যতক্ষণ না আমলে নিতে পারছি ততক্ষণ এই অবস্থা আমাদের সমাজে চলতেই থাকবে।
>একটি পরিসংখ্যান...
সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) নারী নির্যাতন নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি জরিপ চালিয়েছে। “ভাইলেন্স আগেইন্স উইমেন্স (ভিএডব্লিউ) সার্ভে ২০১১” এই জরিপে নারী নির্যাতনের অনেক তথ্য উঠে এসেছে।
বিবিএস বলেছে,দেশেরে বিবাহিত নারীদের ৮৭ শতাংশই কোন না কোন সময়ে কোন কোন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ বলেছেন,তারা স্বামীর মাধ্যমে শারীরিক নির্যাতন ভোগ করেছেন। ৩৬ শতাংশ যৌন নির্যাতনের শিকার, ৮২ শতাংশ মানসিক এবং ৫৩ শতাংশ নারী স্বামীর মাধ্যমে অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিস্ময়কর আরো তথ্য হচ্ছে, এসব নারীরা ৭৭ শতাংশই বলেছেন তারা বিগত একবছরেও একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
বিবিএসের এই জরিপ বলেছে, যেসব নারীরা শারীরিক নির্যাতনের স্বীকার হন সেসব নারীদের মাঝে মাত্র অর্ধেক চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ পান। আর একতৃতীয়াংশ নারীই স্বামীর ভয়ে বা স্বামী সম্মতি না দেয়ার কারণে চিকিৎসকের কাছ পর্যন্ত যেতে পারে না
এদিকে আমরা দেখতে পাই, শহরের তুলনায় গ্রামে নারী নির্যাতনের হার বেশি।আবার বয়স অনুযায়ী নির্যাতনের হার পাল্টাতে থাকে।আবার যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে অবিবাহিত নারীরা বেশি ঝুঁকির মাঝে থাকলেও মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতনের ক্ষেত্রে বিবাহিত নারীরা এর শিকার বেশি হন। বিবিএসের জরিপে ৭ শতাংশ নারী জানিয়েছে,নির্যাতনের কারণে তারা আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাহিত এইসব নারীদের ৫৬ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছরের আগেই।
সুত্রমতে,২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত নারী নির্যাতনের বা নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৩১ হাজার ৬৬৯ টি।এর মাঝে ২০১০ সালে নারীর প্রতি নির্যাতনের ঘটনা ঘটে ৫৫৭০ টি, ২০১১ সালে ৬৬১৬টি, ২০১২ সালে ৫৬১৬ টি, ২০১৩ সালে ৪৭৭৭ টি, ২০১৪ সালে ৪৬৫৪ টি, এবং ২০১৫ সালে ৪৪৩৬ টি।
এদিকে আমরা আবার সাধু হয়ে বলি আওড়ায় নারীর অবাধ স্বাধীনতাকে নিয়ে। আমরা বলি নারী স্বাধীন কিন্তু দেশজুড়ে অপহরণের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। ২০১০-২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার নারীকে অপহরণ করা হয়।অন্যদিকে নারী ও শিশু পাচার,নারীকে পতিতালয়ে বিক্রি,যৌতুকের কারণে হত্যা,বাল্যবিবাহ ও পুলিশের নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে হাজার তিনেকের উপরে।এই সময়ে নারীকে পতিতালয়ে বিক্রির সংখ্যা প্রায়স ৫ হাজার।
এতক্ষণ তো শুধু বই-খাতায় লিপিবদ্ধ নির্যাতনের সংখ্যা গুলো তুলে ধরা হলো যা পুলিশ কেসে অন্তর্ভূক্ত হয়েছিলো কিংবা যা জেনেছি তা। কিন্তু প্রতিদিন আমাদের অগচওে এমন অসংখ্য ঘটনা ঘটতেছে যা এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভূক্ত করলে কয়েকগুন ছাড়িয়ে যাবে।
নারীর প্রতি সংঘটিত অপরাধকে ছোট করে দেখা, আইনের সঠিক প্রয়োগ না হওয়া,সাক্ষীকে ভয় দেখানো,প্রভাবশালীদের অর্থের প্রলোভন ও নির্যাতিত পরিবারের ঘটনা চেপে যাওয়ার চেষ্টার কারণেই নারী নির্যাতনরোধ সম্ভব হচ্ছেনা বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
পরিশেষে বলতে চাই,আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। আমরা সবাই হয়তো বিখ্যাত নেপোলিয়ন বা কবি নজরুলের মত করে ভাবতে পারিনা কিন্তু আমরা যদি আমাদের বিবেককে জিজ্ঞাসা করি,এই যে নৃশংসতা,নির্যাতনের স্টিম রোলার এ থেকে তুমি কি পেলে? বা সমাজ কি পেল? এর কারণে কি অশান্তি নেমে আসেনি সংসাওে বা সমাজে?
আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিটাকে বদলানো দরকার। যদিও আইনের শাসন আমাদের মাঝে কতটুকু আছে তা আজ প্রশ্নবিদ্ধ তবুও যেখানেই যেভাবেই কোন নির্যাতন হতে দেখিনা কেন দ্রুত প্রশাসনকে জানানো উচিৎ।
নারীদের শুধু মাদার তেরেসা হলেই হবেনা,তাদের প্রতিবাদী হতে হবে,অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারা যখন সোচ্চার হবে তখন আর কেউ সাহস করবেনা তাদের প্রতি সহিংস হতে।
                                                                                                                                                 তরিকুল ইসলাম লাভলু
                                                                                                                                                          সাংবাদিক

ONN TV
payoneer
নিউজ আর্কাইভ
সর্বাধিক পঠিত
সখিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২ ব্যাপী ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান
ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

সাতক্ষীরা  প্রতিনিধি: সখিপুর ইউনিয়নের সখিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২ দিনব্যাপী ক্রীড়া, কুইজ, রচনা প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বে-সরকারি প্রতিষ্ঠা

জেলা পরিষদের সদস্য প্রাথী শাপলার গনসংযোগ
জেলা পরিষদের সদস্য প্রাথী শাপলার গনসংযোগ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে গনসংযোগ করেছেন জেলা পরিষদের সদস্য প্রার্থী সোনিয়া পারভীন শাপলা। সোমবার

দেবহাটা রিপোর্টাস ক্লাবের নবগত নির্বাহী অফিসারের সাথে ফুলের শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়
 শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলা নবগত নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেবহাটা রিপোর্টাস ক্লাবের নের্তৃবৃন্দরা। সোমবার দুপুরে নির

দেবহাটায় ছাত্রলীগের ৪দলীয় ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট
৪দলীয় ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট

মীর খায়রুল আলম, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: দেবহাটায় ছাত্রলীগের উদ্যেগে ৪দলীয় ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার গোপাখালি মাঠে দে

দেবহাটায় ইএনও’র বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন
দেবহাটায় ইএনও’র বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন

মীর খায়রুল আলম:: দেবহাটা উপজেলাকে মডেল করতে ছুটির দিনে উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ আল-আসাদ। শুক্রবা

শিরোনাম