TURNER IT SOLUTION

বুধবার ১৭ জানুয়ারী ২০১৮ || সময়- ৪:১২ am

Warning: include(usbd/config/connect2.php) [function.include]: failed to open stream: No such file or directory in /home/onn24/public_html/details.php on line 82

Warning: include(usbd/config/connect2.php) [function.include]: failed to open stream: No such file or directory in /home/onn24/public_html/details.php on line 82

Warning: include() [function.include]: Failed opening 'usbd/config/connect2.php' for inclusion (include_path='.:/usr/lib/php:/usr/local/lib/php') in /home/onn24/public_html/details.php on line 82

Warning: mysql_num_rows() expects parameter 1 to be resource, boolean given in /home/onn24/public_html/details.php on line 84

লোভের কাছে পরাজিত হলো আয়নাবাজি

  • chonchol

    লোভের কাছে পরাজিত হলো আয়নাবাজি

আয়নাবাজির টিজার থেকে শুরু করে মুক্তি পর্যন্ত অন্ধের মতো ফলো করেছি। ব্যক্তিগতভাবে প্রচার চালিয়েছি। মুক্তির ছয়দিনের দিন বলাকা সিনেমা হলে গিয়ে বন্ধুদেরকে নিয়ে সিনেমাটি দেখেও এসেছি। আয়নাবাজিকে নিয়ে সব সমালোচনার বাইরে গিয়ে টানা সার্পোট করেছি।

 

 

 

অনেক অনেক সমালোচনা, আয়নাবাজি ঠিক সিনেমা হয়েছে কি হয়েছে না এমন সব আলাপের বাইরে গিয়ে আয়নাবাজি দেখে এসে পজেটিভ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লিখেছি। খুব করে চেয়েছি যেন আয়নাবাজি দেশীয় সিনেমার ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকে। চাইলে দেশের সিনেমার চিত্রও যে বদলানো যায়, আয়নাবাজি দিয়ে তা বলতে চেয়েছি। হলে গিয়ে সিনেমা দেখার দর্শক যে দেশে আছে তা বলতে চেয়েছি।

 

কেন করেছি এতো কিছু? যতটা না আয়নাবাজির জন্য তা করেছি, তার চেয়েও বেশি করেছি আমাদের সিনেমার জন্য। সব সময়ে চেয়েছি আমাদের সিনেমায় সুদিন ফিরুক। বিশ্বাস করি তরুণ, শিক্ষিত ও সচেতন প্রজন্ম যদি সিনেমাকে প্রমোট করে, সিনেমা বানায় তবে আমাদের সিনেমার হারানো অতীত আবার ফিরে আসবে। তবে আয়নাবাজির প্রতিও দায়িত্ববোধ কাজ করেছে। আয়নাবাজির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘কন্টেন্ট ম্যাটারস লিমিটেড’ ও ‘হাফ স্টপ ডাউন’ এর প্রতি দায় কাজ করেছে। যারা দেশের সিনেমার প্রায় নিম্মজিত জাহাজের মাস্তুলে দাঁড়িয়ে ৬০ লাখ টাকা খরচ করে বাজি ধরেছিলেন তাদের জন্য দায় বোধ করেছি। ভেবেছি নতুন নতুন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসলে, পর্যাপ্ত ও প্রয়োজনীয় টাকা লগ্নি করলে আবার আমাদের সিনেমা দাঁড়াবে। ভাল সিনেমা হবে। ব্যবসা সফল সিনেমা হবে। আবার হলগুলোতে টিকেটের লাইনে রোজ মারপিট হবে।

 

কিন্তু একি করলো কন্টেন্ট ম্যাটারস লিমিটেড ও হাফ স্টপ ডাউন? শুধু নিজেদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে, দেশীয় সিনেমার স্বার্থ, হল বাঁচানোর স্বার্থ তথা জাতীয় চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থ ভুলে গেল?

 

নগদ ৫০ লাখ টাকার লোভে পড়ে রবি টিভির গ্রাহকের কাছে বিক্রি করল আয়নাবাজির স্পন্সরশিপ। রবি টিভির মাধ্যমে গ্রাহকদের ৩৬ টাকায় ছবিটি দেখার সুযোগ দিল। ২১টি হলে মুক্তি পাওয়া সিনেমা এখন ৭৩টি হলে চলছে। প্রথম দুই সপ্তাহে ব্যবসা করেছে দুই কোটি ১৩ লাখ টাকা।

 

এফডিসির বাইরের নির্মাতারা হল পান না এই অভিযোগ শুনতে শুনতে বধির হওয়ার মতো অবস্থা আমাদের। কিন্তু আয়নাবাজির প্রতি মানুষের আগ্রহ থাকায় হল মালিকরা আগ্রহ দেখিয়ে সিনেমাটি হলে নিচ্ছেন। ঠিক তখনই এই রকম হন্তারক, স্বার্থপর কাজ কি করে করলো কন্টেন্ট ম্যাটারস লিমিটেড ও হাফ স্টপ ডাউন?

 

সিনেমাটি ২১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত রবির সাইটে থাকার কথা ছিল। কিন্তু সেটা পাইরেসি হয়ে এখন মানুষের মোবাইলে মোবাইলে। কি ভাবেন আমাদের তরুণ প্রজন্মকে? তারা বোকা না। বিপাকে পড়ে রবির সাইট থেকে একদিন পর সিনেমাটি তুলে নেওয়া হয়। এই এক দিনেই পাইরেসি করে সিনেমাটি সফটওয়্যারের সহায়তায় ফেসবুক-ইউটিউবসহ নানান ওয়েবসাইটে আপ করা হয়ে যায়। যা হবার হয়ে গেছে। এখন সরিয়ে ফেললেই বা কি হবে।

 

এই ব্যাপারে কন্টেন্ট ম্যাটারস লিমিটেডের কর্ণধার ও আয়নাবাজির কাহিনীকার-অভিনেতা গাউসুল আলম শাওন আত্মপক্ষ সমর্থন করে সংবাদ মাধ্যমে বলেন, ‘মোবাইল অডিয়েন্সদের কথা চিন্তা করে পরীক্ষামূলকভাবে ছবিটি আপ করেছিলাম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনেকেই সফটওয়্যারের সহায়তায় ফেসবুক-ইউটিউবসহ নানান ওয়েবসাইটে আপ করছিল। আর যেহেতু হলে দর্শক ছবিটি এখনো দেখছে তাই আমরা রবি টিভি থেকে আপাতত নামিয়ে দিয়েছি।’

 

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ২৮টি ওয়েবসাইটে রিপোর্ট করে ছবিটি নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

শাওন দাবি করেন, ওইসব সাইটে আপলোড করা ক্লিপে কোনো শব্দ ছিল না।

 

গত প্রায় দুই দশক ধরে আমাদের প্রযোজকরা লোকসান দিচ্ছেন। হল মালিকরাও সুবিধা করতে না পারায় এক এক করে বন্ধ করে দিয়েছেন হলগুলো। কিন্তু আয়নাবাজি সে জায়গায় ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থানে। প্রায় প্রতিটি শোতে হাউসফুল বোর্ড ঝুলছে টিকেট কাউনটারে। বহুদিন পর পরিবারের সবাই মিলে হলে আসছেন। হল থেকে হাসি মুখে বাড়ি ফিরছেন। অনুমানের চেয়ে বেশি, প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আয় করছিল প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান, লাভবান হচ্ছেন হল মালিকরাও। তারপরও কেন এমনটা করলেন কন্টেন্ট ম্যাটারস লিমিটেড তথা গাউসুল আলম শাওন ও হাফ স্টপ ডাউন তথা নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী।

 

আপনারা কি বিন্দু পরিমাণ দায় বোধ করেননি হলগুলো বাঁচিয়ে রাখার আবেদনের প্রতি, যে তরুণগুলো জীবন বাজি রেখে, অভাব অনটনে থেকেও স্বপ্ন দেখে স্বাধীন নির্মাতা হওয়ার, এফডিসির বাইরে এসে সিনেমা বানিয়ে দেশের সিনেমাকে এগিয়ে নিতে চেয়েছিল, তাদের জন্য কি কোনো দায়বোধ করেন না? নাকি বিজ্ঞাপন বানাতে বানাতে ভুলে গেছেন সব এইসব ভব্যতা সভ্যতা, চেতনা আর দেশাত্ববোধের কথা।

 

আসলে আমরা বোকা। আপনারা তো বিজ্ঞাপন বানিয়ে বানিয়ে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করে করে অভ্যস্ত। প্রতারণা আপনাদের নতুন কিছু না। আমাদের অন্ধের মতো এই বিশ্বাস আপনাদের কাছে কোনো মূল্য নেই।

 

অমিতাভ রেজা একবার এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন ‘শেকড়, দেশাত্মবোধ, মুক্তিযুদ্ধ, জাতি- এসব নিয়ে আমার কিচ্ছু যায় আসে না। আমি টাকার জন্য কাজ করি, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

 

দুঃখিত অমিতাভ। একবার বলবেন কি আপনার সঙ্গে ‘মানহীন নোংরা’ সিনেমা দিয়ে জবরদখল করে হলকে বাজেয়াপ্ত করা সেই দুষ্কৃতিকারীদের পার্থক্য কি? ওরা মন্দ এবং মানুষ সম্ভবত ওদের মন্দই জানে। আপনারা তো শিক্ষিত, ভদ্র তাহলে আপনারা কেন একই কাজ ভিন্নভাবে করলেন। তাদের চেয়ে বেশি ন্যাক্করজনকভাবে কাজটি আপনারা করেছেন। বিশ্বাস, ভালাবাসার এই দিলেন প্রতিদান। দুঃখিত অমিতাভ, আপনি যদি টাইটানিকের মতো জনপ্রিয় সিনেমাও বানান, বাইসাইকেল থিফস, লাইফ ইজ বিউটিফুল, সিটিজেন কেইনের মতো বিখ্যাত ও কালজয়ী সিনেমাও বানাবেন বলেন আপনাকে আর বিশ্বাস করি না।

 

একটি ব্যক্তিগত দুঃখবোধের গল্প দিয়ে লেখাটি শেষ করব। আয়নাবাজি হলে আসার পর নিজে দেখেছি। যে বন্ধু-বান্ধব বিগত চার/পাচঁ বছর হলে গিয়ে সিনেমা দেখে না তাদেরকে এক প্রকার বাধ্য করেছি হলে গিয়ে সিনেমাটি দেখার জন্য। সিনেমা নির্মাণ করে এবং নির্মাণের মাঝ পথে আছে এমন বেশ কয়েকজন নির্মাতার সঙ্গে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব পর্যন্ত মেনে নিয়েছি আয়নাবাজির প্রচার চালাতে গিয়ে। আমার কথা একটাই ছিল আয়ানবাজি আর্টে, সিনেমেটিক অ্যাপোচে কতটুকু কি হয়েছে তা নিয়ে এখন ভাববার সময় না। ভবিষ্যৎ বলে দিবে সে কথা। কিন্তু মানুষ তো হলে গিয়ে সিনেমাটি দেখছে এবং দেখুক এটাই চাইতাম। কেউ কেউ তো অমিতাভ রেজার সাক্ষাতকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তখন বলেও ছিল, একজন ব্যবসায়ীর কাছে আর্ট কালচারের উন্নতি আশা করা ঠিক না। তখন তাদেরকে আতেল ভেবেছি। এখন তো মনে হচ্ছে তারাই ঠিক, আমিই ভুল।

 

যে লোক বলতে পারে শেকড়, দেশাত্মবোধ, মুক্তিযুদ্ধ, জাতি  দিয়ে কিছু যায় আসে না। টাকাই একমাত্র এবং শেষ কথা তার দ্বারা আমাদের সিনেমার উন্নতি ঘটবে এমন বিশ্বাস করার জন্য নিজের প্রতি করুণা হচ্ছে। আর এমন ভোগাস ইমোশন ওন করার জন্য এবং কাছের মানুষদের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করে আয়নাবাজির প্রচার চালানোর জন্য দুঃখ হচ্ছে।

ONN TV
payoneer
নিউজ আর্কাইভ
সর্বাধিক পঠিত
সখিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২ ব্যাপী ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান
ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

সাতক্ষীরা  প্রতিনিধি: সখিপুর ইউনিয়নের সখিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২ দিনব্যাপী ক্রীড়া, কুইজ, রচনা প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বে-সরকারি প্রতিষ্ঠা

জেলা পরিষদের সদস্য প্রাথী শাপলার গনসংযোগ
জেলা পরিষদের সদস্য প্রাথী শাপলার গনসংযোগ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে গনসংযোগ করেছেন জেলা পরিষদের সদস্য প্রার্থী সোনিয়া পারভীন শাপলা। সোমবার

দেবহাটা রিপোর্টাস ক্লাবের নবগত নির্বাহী অফিসারের সাথে ফুলের শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়
 শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলা নবগত নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেবহাটা রিপোর্টাস ক্লাবের নের্তৃবৃন্দরা। সোমবার দুপুরে নির

দেবহাটায় ছাত্রলীগের ৪দলীয় ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট
৪দলীয় ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট

মীর খায়রুল আলম, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: দেবহাটায় ছাত্রলীগের উদ্যেগে ৪দলীয় ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার গোপাখালি মাঠে দে

দেবহাটায় ইএনও’র বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন
দেবহাটায় ইএনও’র বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন

মীর খায়রুল আলম:: দেবহাটা উপজেলাকে মডেল করতে ছুটির দিনে উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ আল-আসাদ। শুক্রবা

শিরোনাম